মুক্তগদ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মুক্তগদ্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, এপ্রিল ১৪, ২০১৭

মুণ্ডচ্ছেদের রাজনীতি আজ তুঙ্গে

লিখেছেন :  পাপ্পন দাস

মুণ্ডচ্ছেদের রাজনীতি প্রসঙ্গে সেদিন ফেসবুকে একটা স্টেটাস আপডেট করি।লিখেছিলাম,'বিজেপির এক যুব নেতা বলেছেন,
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শয়তান,এবং তাই তাঁর মাথার দাম ১১ লক্ষ টাকা।অবশ্য সংসদের উভয় সদনে যখন এই বিষয়টা তোলে ধরা হয়,তখন সবাই এর নিন্দা করেন।বিজেপির তরফ থেকে তো বলেই দেওয়া হয়েছে,চাইলে অভিযুক্ত সেই নেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
     এবার নয়া সংযোজন হলেন টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম 'নূর রহমান বরকতি'।যিনি বিজেপির সেই নেতা যোগেশের মাথার দাম ২২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করলেন।তিনি বললেন,যে লোকটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথার দাম ধার্য করেছে,তার মাথা কেটে আনলে আমি ২২ লক্ষ টাকা দেবো।ভালো,খুব ভালো,খুব খুব ভালো।হুমকির পাল্টা হুমকি তো একেই বলে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার
(ইমাম) বোনের মতো।তাই তাঁর(মমতা) মাথার দাম যে ধার্য করেছে,তার (যোগেশ) মাথার দাম ধার্য করা যেতেই পারে।
     কোনটা ঠিক,কোনটা বেঠিক, তা আমার জানা নেই।আদতে কী দু'টাই বেঠিক,তাও আমি বলতে পারছি না।জ্ঞানীজনেরা এই ব্যাপারে নিজেদের মত দেবেন।কিন্তু আমার বক্তব্য হল,যোগেশ যা বলেছেন,তা অন্যায়।এর প্রতিবাদ হওয়া উচিত,এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।আর আমি যতটুকু দেখতে পাচ্ছি,সবাই এর প্রতিবাদ করছেন।কেউ কেউ এর প্রতিবাদস্বরূপ কোনো কবিতা লিখেছেন কি না,তা আমার জানা নেই।তবে চাইলে লিখতেই পারেন।কিন্তু ইমামের বক্তব্যের প্রতিবাদ কেন কেউ করছেন না।ইমাম কী সঠিক কথা বলেছেন?তাছাড়া এসব ইসলামের ধ্বজাধারী ইমামরা তো প্রায়ই ফতোয়া টতোয়া জারি করে থাকেন।এদের বিরুদ্ধে কেন কেউ মাঠে নামেন না?কেন কড়া ভাষার এদের নিন্দা করেন না?কেন এদের প্রতিবাদস্বরূপ দু-চারটে কবিতা বেরিয়ে আসে না?'

শুক্রবার, এপ্রিল ০৭, ২০১৭

ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহ্য আজ চরম সংকটে

 লিখেছেন : পাপ্পন দাস


ভারতের সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে যে ভারত একটি ধর্মননিরপেক্ষ রাষ্ট্র।তার মানে ধরে নেওয়া যায় যে দেশের সংবিধানই বলে দিচ্ছে, ভারতে ধর্মান্ধদের কোনও স্থান নেই।কিন্তু বর্তমান ভারতের কিছু রাজনৈতিক গতিবিধির দিকে চোখ রাখলে কোনও কিছুই আর গোপন থাকে না।বোঝা যায় যে আজকাল অনেকে ইচ্ছে করেই দেশের এই সুন্দর মহিমা,যাকে আমরা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আখ্যায়িত করেছি,তাকে আহত করছেন।
    প্রথমেই ধরে নেওয়া যাক গো-মাংস প্রসঙ্গ।আজকাল মনে হচ্ছে এই গো-মাংস জিনিসটি যতটা না মাংস,তার চেয়ে ঢের বেশি বিতর্কিত।এই জিনিসটি যেন হয়ে গেছে আজকাল বিতর্কের অন্য একটি নাম।বস্তুত আজ সারা ভারতে এ ধরণের চরম বিতর্কিত জিনিস আর দু-টি আছে বলে আমার মনে হয় না।আজকাল এই গো-মাংস বিষয়টি এমনভাবে চর্চিত যে মনে হচ্ছে দেশে বুঝি আর কোনো ইস্যুই নেই।
    সেদিন ফেসবুকে পূর্ব বাংলার আমার এক বন্ধু এই ব্যাপারে লিখেছে,' ভারত ক্রমশ একটি "গরুর দেশ" হতে চলেছে। গরু এবং ভারত যেন এখন সমার্থক। ওরা মাকে ধর্ষণ করে গরুকে মা ডাকে। আবার সেই গরু নামক মাকে পূজা করতে মানুষকে হত্যা করে। যেখানে প্রতিদিন ভারতের কোথাও না কোথাও কোনও নারী ধর্ষিত হয় সেখানে গরুকে মা ভেবে পূজা করা ও তাকে বাঁচাতে মানুষকে হত্যা করা প্রমাণ করে ভারত মানুষের দেশ থেকে "গরুর দেশ" দেশ হতে চলছে। হিন্দুত্ব বেঁচে থাক, গরুও বেঁচে থাক, শুধু মানুষ নিপাত যাক।'
    সে কিন্তু ভুল কিছু লিখেনি।দেশের বাইরে বসে একজন লোক যদি এই ব্যাপারটাকে এত সুন্দর করে উপলব্ধি করতে পারেন,তাহলে দেশে বসে কেন আমরা ব্যাপারটাকে তোল দিতে চাইছি না।এই যেমন সেদিন,আমাদের রাজ্যের যোরহাট জেলায় গরুর মাংস রাখার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়।তাছাড়া এদের মধ্যে একটি নাবালকও রয়েছে।আর এই গ্রেফতারের ঘটনা জনসম্মুখে আসার পর সারা এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।কিন্তু যাদের ধরা হয়েছে এরা সবাই মুসলিম সম্প্রদায়ের।আর তাইতো প্রশ্ন উঠছে,আমরা কি আজকাল মানুষের বাড়ির ফ্রিজের দিকেও চোখ রাখতে উদ্যত?

রবিবার, এপ্রিল ০২, ২০১৭

আইএস, জঙ্গি বা কথিত ‘ধর্মযুদ্ধ’ – এসবের পিছনের গল্প কী?



লিখেছেন : মাসদুর রহমান

পৃথিবী জুড়ে কিছু একটা চলছে, বড় অদ্ভুত আর গোপন ! একটা  crisis  দিন দিন develop করছে ধীরেধীরে সেটা বহুমাত্রিক রুপ নিচ্ছে মানুষ নানান দল উপদলে ভাগ হয়ে যাচ্ছে  এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় আসবে যখন মানুষ সব বুঝেও আর এক হতে পারবেনা  কারণ  তারা তখন  বিভিন্ন কারণে শত ভাগে শত দলে বিভক্ত। একে অন্যকে দোষারোপ করবে।হানাহানী করবে  কারা যেন সেটাই চাইছে………… কারা ?!?! ………… Let’s Dig !!!
এখন অনেক ধরনের সমস্যা আমাদের চারপাশে। সব সমস্যার কারণ এক কথায় বোঝানো সম্ভব নয়। কারণ একটা সমস্যা আরও ১০ টা সমস্যার জন্ম দিচ্ছে, পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি সব কিছুর দিকে না তাকিয়ে ধীরে ধীরে মূল সমস্যার দিকে যাই তাহলে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে !
এই মুহুর্তে আমাদের দেশে সবার মাথায় একটা সমস্যা ঘুরছে, সেটা হল- “ জঙ্গীসমস্যা। আইসিস, জেএমবি, হিজবুত তাহরীর, জামাত-শিবির ইত্যাদি এর কারণ, “ইসলাম” !  জঙ্গীদের বক্তব্য আমাদের দেশ সহ সারা পৃথিবীতে ইসলাম আজ বিপন্ন। তাই তারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিবে, জীবন নিবে ! ইসলাম কি  তবে  প্রতিষ্ঠিত নয় ?!
প্রথমেই আসি বাংলাদেশে; বাংলাদেশে কি ইসলাম বিপন্ন ?!!! নাকি ইসলামকে বিপন্ন করে তোলা হচ্ছে ?! গত কিছু বছরে অনলাইনে ইসলাম নিয়ে যেই পরিমান নাটক হল তা কারা করল ? সবাই বলবে  Blogger রা ! তাই বলে কি সব  Blogger  রা ? না; গুটিকয়েক  Blogger এখন প্রশ্ন হলকেন ? কি তাদের  benefit ?!?!?!  মন গড়া অনেক উত্তর আমরা দিতে পারি, কিন্তু সত্যটাকে  Proof করা কঠিন হবে। তবে সেসব উস্কানীমূলক ছিল নিঃসন্দেহে।
এবার চলুন, জঙ্গীদের বক্তব্য অনুযায়ী দেখি সারা পৃথিবীতে ইসলামের কি অবস্থা ! গত কয়েক বছরে আরব দেশ গুলোর কি হাল হয়েছে সবই আমরা জানি। যুদ্ধ চলছে সিরিয়ায়, ইরাকে, আফগানিস্তানে, ইয়েমেনে ধ্বংস হয়ে গেছে লেবানন, মিশর, আফগানিস্তান সহ বহু আরব দেশ। অবরোধ, নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান।  আর প্যালেস্টাইন সমস্যা তো রয়েছেই !!! অন্য দেশগুলোও খুব একটা ভালো নেই !
তাহলে কি জঙ্গিরাই ঠিক …?!?!?!
ধরে নিলাম জঙ্গিরাই ঠিক !!! তাহলে, এর প্রতিকার প্রয়োজন ! যারা মুসলিম দেশ গুলোতে যুদ্ধে লিপ্ত তাদের প্রতিরোধ করতে হবে !
এবার কথা বলা যাক মুসলিম দেশগুলোর চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে। কাদেরকে প্রতিরোধ করতে হবে, কারা সেখানে যুদ্ধে লিপ্ত ?!?!?!
সিরিয়ায় যুদ্ধ করছে সিরিয়ান আর্মড ফোর্স, ফ্রী সিরিয়ান আর্মি + আল কায়েদা , সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স এবং ISIS  …… আর বড় দল গুলোর সাথে জড়িত আরো বহু দল উপদল !
ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র তার সহযোগী দেশগুলোর সাদ্দাম উৎখাত  যুদ্ধ শেষ হয়েছে !!!  এখন যুদ্ধ করছে ইরাকী শীয়া, সুন্নী, কূর্দী বিভিন্ন দল উপদল। সাথে আছে আল-কায়েদা, আনসার আল ইসলাম  latest ISIS  এর মত  জঙ্গি দল গুলো।

রবিবার, মার্চ ২৬, ২০১৭

চাড্ডি, তিনো-সবার ক্ল্যাসিফিকেশন

লিখেছেন : বিপ্লব পাল
চাড্ডি কথাটাই লোকের আপত্তি থাকলে কিছু করার নেই। চাড্ডি, ভামপ্যান্টি, তিনো, হার্মাদ, কঙু , ছাগু-সবকিছুর অস্তিত্ব আছে।  যারা গণেশের হেড সার্জারীতে বিশ্বাস করে উন্নত প্রাচীন ভারতের স্বপ্নদেখে তারাই চাড্ডি। মহাভারতের যুগে এটম বোমা , মিসাইল এসব ছিল-এগুলো যারা বিশ্বাস করে, তাদের শিক্ষার মান মাইনাস ক্লাস টেন। মাইনাস মাধ্যমিক। এই বিশেষ নেগেটিভ এডুকেটেড লোকেদের জন্য একটা নামকরন অবশ্যই দরকার। সেটাই চাড্ডি।

  অনুরূপ ভাবে যারা একাধারে লেনিন এবং লিব্যারালিজমে বিশ্বাস করে, তারা ভামপ্যান্টি। কারন দুটো  সম্পূর্ন বিপরীত ধর্মী আইডিয়াকে যুগপৎ যারা সাপোর্ট করে তারা কমিনিউজম বা লিব্যারালিজমের কোনটাই বোঝে নি। বুঝলে দুটো সম্পূর্ন বিপরীত আদর্শের একই সাথে সাপোর্টার হওয়া যায় না। অর্থাৎ দর্শনশাস্ত্রের প্রাথমিক জ্ঞানটুকু না থাকা সত্ত্বেও যারা  একই সাথে কমিনিউস্ট হিউমানিস্ট লিব্যারাল সবকিছু  একসাথে হওয়ার চেষ্টা করে অজ্ঞানতা বশত-সেই কার্টুন ক্যারেকটরগুলো হচ্ছে ভামপ্যান্টি।

    হার্মাদ ক্লাসটা বরং সোজাসাপ্টা।  এদের কাছে কাস্তে মানে মানুষ কাটো, হাতুড়ি মানে বাস ভাঙো। ভাবে গালাগাল দিলে খুন করলেই কমিউনিজম আসবে!

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৩, ২০১৭

বাকস্বাধীনতা এবং এর বিরুদ্ধ মতবাদ

 লিখেছেন : পাপ্পন দাস
মৌলবাদের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলতে গিয়ে কবি শ্রীজাত লিখলেন---'আমাকে ধর্ষণ করবে যদ্দিন কবর থেকে তুলে--/কন্ডোম পরানো থাকবে,তোমার ধর্মের ত্রিশূলে।''---এ কি লিখলেন কবি?কন্ডোম পরা থাকলে কি যে কেউ যে কোনো কিছু করতে পারে?তার সব গুনাহ মাফ?কন্ডোম পরে যদি কেউ ধর্ষণ করে,তবে কি সেটা ধর্ষণ নয়?আর কন্ডোম না পরে ধর্ষণ করলেই কি তাকে শুধু ধর্ষণ বলে?কবির এ মানদণ্ড ভুল।কবি আমাদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করেছেন।কবিকে সামনে পেলে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিতাম।
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও তো রামারণ নিয়ে লিখবেন বলেও সেটা লিখেননি।কিভাবে তিনি লেখেন যে,সীতাকে হরণ করে রাবণ যখন নিয়ে যায়,প্রথম রাত্তিরে কিন্তু সীতাকে সে অশোক বনে রাখেনি,রেখেছিল তার নিজের অন্ধকারময় ঘরে।সেখানে কি সে সীতার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে নি?কিভাবে লিখবেন এই কথাটা?তাছাড়া গর্ভবতী সীতাকে নিয়ে বাল্মীকি যা ইঙ্গিত দিয়েছেন,লব-কুশ নিয়ে তিনি যা যা বলেছেন,কৌশল্যাকে নিয়ে রাজশেখর বসু যা যা বলেছেন,তা কিভাবে লিখবেন?না না,তা লেখা যায় না।তাই লেখা বাদ।রামায়ণ বাদ।কারোর ধর্মানুভূতিতে আঘাত করলেন না।
     এ জায়গায় দাঁড়িয়ে শ্রীজাত কিভাবে আমাদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করেন?চলো,তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দি'।হয় তাঁর স্থান হোক জেলে,নতুবা তসলিমা নাসরিনের মতন রাজ্যের বাইরে।বুঝলে গুরু--এ দেশে ন্যূনতম বাকস্বাধীনতা নেই,তা শ্রীজাত,
তসলিমা এবং তাঁদের মতন বাকী সবারও বুঝতে হবে।তোমাদের বুঝতে হবে আমরা সম্মিলিতভাবে কোন দিকে এগুচ্ছি?
    কবিকে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,'এটা আমার কাছে দুর্ভাগ্যজনক।কারণ, আমরা আসলে আস্তে আস্তে গণতান্ত্রিক একটা দেশ হিসেবেও এত বড় অসহিষ্ণুতার একটা আবহাওয়ায় ঢুকে যাচ্ছি,যেখানে মানুষের বাক-স্বাধীনতা খুব সংকীর্ণ একটা জায়গায় আবদ্ধ হয়ে পড়ছে আস্তে আস্তে।একটা কোনো কিছুর বিরোধিতা করলে সঙ্গে সঙ্গে ফতোয়া জারি করা হচ্ছে।যেটা আগে আমাদের দেশে ছিল না।সেটা যে কোনো ধর্মের দিক থেকেই হোক না কেন।সেটা হিন্দুদের দিক থেকে হোক,ইসলামিকদের দিক থেকে হোক,
কিংবা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীদের দিক থেকে হোক।কিন্তু তাদের অসহিষ্ণুতা দিনকে দিন এত বাড়ছে।কারণ আমি কখনই ভাবি নি যে এই কবিতাটা এরকম একটা জায়গায় যাবে যে, যার জন্যে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হবে।সেটা দেখে আমি খুবই হতাশ।যেমন খুবই হাস্যকর জিনিসটা।কিন্তু হাস্যকরের চেয়েও বড় যে, তার আড়ালে লুকিয়ে আছে একটা হতাশা যে আমরা কোন দিকে যেতে চলেছি।...'

শনিবার, মার্চ ১১, ২০১৭

যৌনতা ! নারীর জন্য নয় .........



লিখেছেন : মৌসুমি আক্তার 

যৌনতা! যৌনতা পুরুষের জন্য দাম্ভিকতার বিষয়, নারীর জন্য লজ্জার। নারীর জন্য তার যৌনতা, কামনা প্রকাশ স্বাভাবিক বিষয় নয়। আমাদের সমাজে এখনও যৌনতায় নারীর অবস্থান নিষ্ক্রিয়। যৌনতার সকল রসটুকু পুরুষের দখলে।পুরুষ যতটুকু যৌনানন্দ নারীকে দেয় শুধু সেটুকুই নারীর। নারী নিজের জন্য চিমটিখানিকও আদায় করেনা। আমাদের পুরুষেরা নিজেদের যৌন চাহিদায় বেশ সচেতন। তারা নিজেদের চাহিদার জন্য কাছে টেনেছে নারীকে, প্রেমিক সেজে, প্রভু সেজে। তার নিজেরটা সে কড়ায় গণ্ডায় আদায় করেছে। কিন্তু, নারীরটা? নারীরটা তো নারী নিজেই ভাবেনি।সে তার চাহিদায় পুরুষের কাছে সাড়া দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু কাঁটাটাই পেয়েছে, মাছটা ঠিকই কাঁমড়ে নিয়েছে পুরুষ
আমাদের চিরাচরিত বিশ্বাস, নারীর সার্থকতা সমর্পনে।বাংলা সিনেমার সেই প্রচলিত প্রথা, সাবানা, ববিতারা নিজেদেরকে সঁপে দেবে আলমগীর, রাজ্জাকদের কাছে। কি সমর্পন! নারীর সবটুকুই পুরুষের! নিজের জন্য কিছুই না। যে নারী নিজের যৌনতার কথা বলবে না, যে নারী দু একটা যৌনালাপে লজ্জায় লাল নীল হবে, যার আঁচল ধরে টান দিলে সে আঁচল টেনে ধরবে , সে নারী ভালো নারী।কারন, সে নিজের যৌনতা প্রকাশ করেনি, নিজের কামনায় নিয়ন্ত্রণ রেখেছে, নিজের কাপড় নিজে খোলেনি, সে তো পুরুষকে যৌনান্দ দিতে কাজ করেছে, তাও আবার নির্দিষ্ট পুরুষকে, নইলে কাজ সে করতোই না।
আর যে নারী নিজের চাহিদা মিটিয়ে নিয়েছে, যে নিজের কামনায়, যৌনতায় সক্রিয় হয়েছে, পুংলিঙ্গের উপর উঠে বসেছে সে বেশ্যা মাগী, কারন তার চাহিদা আছে, চাহিদা প্রকাশের সাহস আছে, সে নিজের কাপড় নিজেই খোলে।এই কারনেই মুন্নি, শিলা, বাবলি, পিংকিরা এতো বদনাম হয়েছে। সানি লিওন মিয়া খলিফা সবার চোখে বাঁধে। যে নারী নিজের যৌনতা প্রকাশ করে, যে নারী নিজের কামনায় তাড়িত হয় সে মন্দ নারী। মেয়ে মানুষ কেন বিছানায় নিজেরটা বুঝে নিলো? পুরুষের নয়, নিজের চাহিদার কথা চিন্তা করলো?সে কেন পুরুষের দেয়া যৌনান্দটুকুতে সুখি নয়? এখানেই যত দোষ, এখানেই যতো রোশ, ক্ষোভ। আমরা নারীর যৌনতা, কামনাকে মেনে নিতে পারিনা, নারীর নিষ্ক্রিয়তায় প্রচন্ড অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি আমরা।তাই যদি কোনো নারী এর বিপরীতে যায়, নিজের অবস্থানে সক্রিয় হয়ে ওঠে, তবে আমরা তাকে বারবণিতা, কুলটা, অসভ্য, বেশ্যা হিসেবে দেখি।আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিই এমন হয়ে যাচ্ছে
মনে আছে, রবীন্দ্রনাথের বিনোদিনীর কথা? রবীন্দ্রনাথ তাঁর সাহিত্যে বিনোদিনীর মতো এক অপূর্ণ, বেহায়া, ব্যাভিচারিনীকে স্থান দিয়েছিলেন। বিনোদিনী নিজের চাহিদার সম্মান করেছে , কিন্তু আমাদের কাছে পায়নি। আমরা বিনোদিনীকে নিয়ে ভাবিনি, বিনোদিনীরও যৌনতার অধিকার আছে তা মানতে চাইনি। আমরা পুরুষদের দল বেঁধে হস্তমৈথুন করা হয়তো মেনে নিতে পারি, কিন্তু এক নারীর সেল্ফ অর্গাজম, ড্রিলিং প্রীতি মোটেই মানতে পারি না।কারন, নারীর যৌনাঙ্গে পুরুষের অধিকার আছে এটা সুস্পষ্ট, কিন্তু পুরুষের যৌনাঙ্গে নারীর অধিকারই পাকাপোক্ত নয়।তাই পুরুষই নির্ধারণ করে যে, সে নারীকে কতটুকু দেবে, আর নিজে কতটা আদায় করবে
আমাদের সমাজে এক বিরাট অংশের পর্নোগ্রাফি আসক্তি আছে।পর্নোগ্রাফির নায়িকা ছাড়া রাতে ঘুম হয়না। তাকে পাবার বড় খায়েশ জাগে। পর্নোগ্রাফির নায়িকা উদ্দমী, যৌনতার তাগিদে ঝড় হয়ে ওঠে, তার অনেক সেক্স(যদিও পর্নোগ্রাফী নারী নির্যাতনেরই একটি উদাহরণ।) তবে সে খারাপ মেয়ে, কারন সে নিজের বেলায় সচেতন, সে পুরুষের কাছ থেকে নিজেরটুকু আদায় করছে, প্রলয়ংকরী ঝড়ের মতো অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে।কিন্তু, ওই পর্নোসুন্দরীকেই আমাদের পুরুষদের পছন্দ। তাকেই চায় মনে প্রানে। কিন্তু, ব্যাক্তিজীবনের নারীটি এমন হোক এটা সে চায় না, কিছুতেই না। কারন, ওটা বেশ্যাপ্রবৃত্তি, নারীর যৌনতা মানেই বেশ্যামী। আমাদের কাছে সেই একই থিওরি থেকে যায়, পুরুষের ক্ষেত্রে "Fuck you" আর নারীর ক্ষেত্রে "Fuck me" বে ইনসাফি নয় কি?