অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১, ২০১৪

টাকা পয়সার সাতকাহন



                    লিখেছেন : দীপক রায়

সারা পৃথিবীতে যার পিছনে মানুষ সবচেয়ে বেশী ছোটে, তার নাম অর্থ আর এই অর্থকে কেন্দ্র করে পৃথিবী জুড়ে কত না ঘটনা ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত সে যাই হোক, কিন্তু অর্থের একক মুদ্রা এলো কোথা থেকে? সভ্যতার আদি যুগ থেকে বস্তু সামগ্রীর মূল্য নির্ধারনে এবং বস্তুর বিনিময়ের মধ্যে একটা শৃঙ্খলা আনতে মানুষ নানা পদ্ধতির কথা ভেবেছে, নানা পদ্ধতির প্রয়োগ করেছে সেইসব থেকেই ক্রমে ক্রমে এসেছে মুদ্রার ব্যবহার কিন্তু একদিনে এখনকার মতো মুদ্রা আসেনি একসময় পাথর, লোহা, পিতল, তামা, ব্রোঞ্জ, সোনা, রূপো ব্যবহার হয়েছে মুদ্রা হিসাবে পোড়ামাটির মুদ্রার কথাও আমরা শুনেছি ঐতিহাসিকদের বইপত্রে যতদূর জানা যায়, ৬৪০ খ্রীষ্টপূর্ব সময়ে মিশর দেশে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে প্রথম ধাতুর মুদ্রার প্রচলন হয়েছিল সেখানেই এরপরে টাঁকশালের জন্ম হয়েছিল মিশরের এই টাঁকশালের মুদ্রা তৈরীর কৌশল এরপরে যায় রোমে এবং বৃহত্তর ভারতে-চীনে রোমের থেকে প্রসারিত হয়ে যায় ইওরোপের নানা দেশে তবে ভারতে-চীনে মুদ্রা তৈরীর কৌশল মিশরের থেকে ভিন্ন ছিল বলে পন্ডিতেরা মনে করেন

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৩

গরিবি মাপার পদ্ধতি বনাম বাস্তব

                        লিখেছেন সরোজ উপাধ্যায়
যোজনা কমিশন অতি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে দারিদ্র্যসীমার নীচের জনসংখ্যা যা ২০০৪-০৫-এ ছিল ৩৭ শতাংশ তা কমে হয়েছে ২০১১-১২-তে হয়েছে ২২ শতাংশ৷ এর দ্বারা ১৩ কোটি ৮০ লক্ষ লোক দারিদ্র সীমার উপরে উঠে এসেছে৷ এই হিসাব অনুযায়ী ২০১২-তে মোট ২৬ কোটি ৯০ লক্ষ লোক দারিদ্র সীমার নীচে ছিল৷ কমিশনের হিসাব অনুযায়ী ২০০৪-০৫ থেকে ২০১১-১২-র মধ্যে ক'বছরে প্রতি বছর ২.১৮ শতাংশ লোক দারিদ্রসীমার উপরে উঠে এসেছে পক্ষান্তরে ১৯৯৩ থেকে ২০০৪-০৫ পর্যন্ত প্রতি বছর মাত্র ০.৭৮ শতাংশ দারিদ্র সীমার উপরে উঠতে সক্ষম হয়েছিল৷ অনেকের মতে যোজনা কমিশন দারিদ্র্যের হিসাবকে কমিয়ে দেখাচ্ছেন যাতে সাধারণ নির্বাচনের আগের বছরে সরকারের কৃতিত্ব সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা যায়, সরকার সেই দিকে যত্নবান হয়েছেন৷ কেউ কেউ বলছেন খাদ্য সুরক্ষা আইন যখন সরকার প্রণয়ন করছেন তখন যাতে কম সংখ্যক লোককে খাদ্য সুরক্ষার অধীনে রাখা সম্ভব হয় সেই জন্য দারিদ্র্যের সংখ্যা কম করে দেখানো হচ্ছে৷

মঙ্গলবার, আগস্ট ২৭, ২০১৩

টাকার দাম তলানিতে, তবু বাড়ছে না রপ্তানি --- লিখেছেন সুমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়


২০১১ সালের জুলাই মাসে ডলারের দাম ছিল ৪৫ টাকা৷ এখন হয়েছে ৬৪ টাকা৷ অর্থা, যে ভারতীয় পণ্য কিনতে বিদেশিদের ১ ডলার খরচ করতে হতো দু'বছর আগে, এখন সেই পণ্য কিনতে খরচ করতে হয় মাত্র ৭০ সেন্ট (১০০ সেন্ট-এ এক ডলার)! ডলারের সাপেক্ষে টাকার বিনিময় দর কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্য সস্তা হওয়ার কথা, দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ার কথা৷

কিন্ত্ত, বাস্তবে তা তো হচ্ছেই না, উল্টে রপ্তানি কমছে! বাণিজ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১১-১২, ২০১২-১৩ এবং ২০১৩-১৪ তিনটি অর্থবর্ষের এপ্রিল-জুলাই ত্রৈমাসিকে রপ্তানি ক্রমশ কমে এসেছে৷ ২০১১-১২ অর্থবর্ষে এপ্রিল-জুলাই ত্রৈমাসিকে আমাদের দেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭৬৫২.৭৬ কোটি ডলার৷ পরের বছর, অর্থাত্‍ ২০১২-১৩ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ওই পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ৭৩৪৭.৬৯ কোটি ডলারে৷ এ বছর এপ্রিল-জুলাই ত্রৈমাসিকে দেশের রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২২৭.২৫ কোটি ডলার৷ এর থেকেই পরিষ্কার, টাকার অবমূল্যায়নের সুবিধা তুলতে পারেনি আমাদের দেশের রপ্তানিকারীরা৷
টাকার বিনিময় দর কমলে রপ্তানি যেমন সস্তা হয়, আমদানি তেমনি দামি হয়৷ যে পণ্য আমদানি করতে দু'বছর আগে ৪৫ টাকা খরচ করতে হত, টাকার অবমূল্যায়নের কারণে সেই পণ্য কিনতে আমাদের এখন খরচ করতে হয় ৬৪ টাকা-৪২ শতাংশ বেশি! দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি কমে যাওয়া উচিত্‍ ছিল৷ অথচ, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১০-১১ অর্থবর্ষে ৩৬,৯৭৬.৯১ কোটি ডলারের তুলনায় ২০১২-১৩ অর্থবর্ষে দেশের মোট আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯,১৪৮.৭২ কোটি ডলার৷ গত দু'টি অর্থবর্ষে ডলার মূল্যেই আমদানির পরিমাণ বেড়েছে ৩৩ শতাংশ!