লিখেছেন ৹ শ্রমণা রায়
কী করে বুঝব বলুন তো যে আপনারা স্বামী-স্ত্রী?
শান্ত ঘোলাটে চোখে আমাকে একবার আপাদমস্তক মেপে নিয়ে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিলেন
কাচের ওপারে থাকা ভদ্রলোক। এমন একটি আনএক্সপেক্টেড বাউন্সারের মুখে পড়ে ঘোরতর
ঘাবড়ে লাট খেল জয়। সে বেচারা বউকে নিয়ে দু'দিন ছুটি কাটাতে এসে এমন
চরিত্রহীনতার দায়ে পড়তে হবে মোটেও বোঝেনি। এবার কী করা...
কলকাতা ছেড়ে কাছে-পিঠে কোথাও একটু টুক করে ঘুরে আসার ইচ্ছে কয়েকদিন ধরেই মনে
দানা বাঁধছিল। তবে যেখানেই যাই, বাইকে যাব, এটা প্রথম থেকেই ঠিক করে
ফেলেছিলাম। কলকাতা থেকে দূরত্ব, রুট - সব বিচার করে দেউলটি যাওয়া ঠিক হল। হাওড়া
জেলার এই ছোট্ট গ্রাম কলকাতা থেকে মোটামুটি ৫০ কিলোমিটারের মত। রূপনারায়ণের
ধারে শান্ত, নিরিবিলি জনপদ। ইন্টারনেটে ছবি দেখেও বেজায় পছন্দ হল।
একদিনের জন্য যাওয়া। সামান্য কিছু জামাকাপড় ও অন্য প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গের ছোট
ব্যাকপ্যাকে পুরে ভোর-ভোর বাইকে চেপে দুগ্গা-দুগ্গা বলে রওনা। (এক্ষেত্রে
দুর্গাকে স্মরণের প্রয়োজনীয়তার বড় কারণ আমার মা ও শাশুড়ি। দু-জনেরই
যুগপত্ আশঙ্কা এই সফরই আমাদের শেষ সফর হতে চলেছে। বাস-ট্রেন-গাড়ি
এত কিছু যানবাহন থাকতে আমাদের এই বাইক-বাহনকে দু'জনের কেউই মোটেও ভালো
চোখে দেখছে না।) বিদ্যাসাগর সেতু পেরিয়ে, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে। তারপর ৬
নম্বর জাতীয় সড়ক। মেঘলা দিনে সকাল সকাল দু-চাকার ভর দিয়ে এই যাত্রা
মনটা বেশ ফুরফুরে করে দিল। ধূলাগড়ে নেমে একবার চা খেয়ে আবার রওনা - পথে
মাঝেমধ্যে ইচ্ছেমতো যেখানে খুশি থেমে খচরমচর ছবি তোলা - ফের চালাও পানসি...