লিখেছেন : মনোবর
অনেক মেঘ তরল হলে তবেই তো কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি হয়। কত যে মেঘের স্টক থাকে আকাশে! সকাল থেকে এত বৃষ্টি হবার পরেও বিরামহীন ভাবে ফোঁটা ঝরছিল। জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে বাইরের দৃশ্য দেখে বেশ সময় কাটান যায়। রাস্তায় লোক চলাচল খুবই কম। উল্টোদিকের প্রায় জানালাই ভেজানো। ওদের হয়ত বৃষ্টি ভাললাগেনা বা দেখার ফুরসৎ নেই।
অনেক মেঘ তরল হলে তবেই তো কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি হয়। কত যে মেঘের স্টক থাকে আকাশে! সকাল থেকে এত বৃষ্টি হবার পরেও বিরামহীন ভাবে ফোঁটা ঝরছিল। জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে বাইরের দৃশ্য দেখে বেশ সময় কাটান যায়। রাস্তায় লোক চলাচল খুবই কম। উল্টোদিকের প্রায় জানালাই ভেজানো। ওদের হয়ত বৃষ্টি ভাললাগেনা বা দেখার ফুরসৎ নেই।
কাল মনে মনে অনেক প্রশ্ন করেও কোন উত্তর
পাইনি। কোন তাৎপর্য্যপূর্ণ সংলাপও কানে আসেনি। ‘তুমি চুপচাপ ঘরে বসে কি কর? বাইরে
তো বিশেষ যাওনা।’ বুড়ীমা জানতে চায়। ‘পড়াশুনো করো বোধহয়!’ আমি মাথা নেড়ে সম্মতি
জানাই। ‘ কি এত পড়?’ পরবর্তী প্রশ্ন। ‘খবরের কাগজ পড়ি, বই টই পড়ি।’ বলেই আমি পাশ
কাটিয়ে বাথরুমে প্রবেশ করি। কিন্তু বের হবার পরেও প্রশ্ন চলতে থাকে। এবং হিতকারী
উপদেশ। ‘ মাঝে মাঝে বাইরে ঘুরে আসবে, তাতে মনটা ভাল থাকবে।’ দরজাটা বন্ধ করা
গেলনা। দরজার পাশেই উনি দাঁড়িয়ে। বন্ধ করলে খারাপ দেখায়। ‘এই ঘরে আমার আগে কে
থাকতো?’ দুম করে প্রশ্নটা ছুঁড়ে আমি বুড়ীমার চোখমুখ লক্ষ্য করি। ওকে বেশ অপ্রস্তুত
দেখাল। একটু যেন নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, ‘ কে আর থাকবে বাবা! আমার তো একটা ঘর
হলেই চলে যায়।’ এর পরেই যেন কি একটা জরুরী কাজ মনে পড়েছে এই ভাব দেখিয়ে উনি চলে
যাবার ভঙ্গী করতেই আমি বলে বসি, ‘ প্রতিদিন ঘুমোনর সময় খাটটা হঠাৎ কেমন দুলে ওঠে
কেন বলতে পারেন? আপনার ঘরেও কি এমন হয়?’ বুড়িমা থমকে গিয়ে অবাক হয়ে ঘুরে আমার দিকে
তাকায়। ‘সে আবার কি কথা! ও তোমার মনের ভুল বাবা, অকারণে খাট দুলতে যাবে কেন?’ আমি
গম্ভীর হয়ে বলি, ‘দোলে। মনের ভুল নয়। তাছাড়া আরো কিছু কিছু ব্যাপার ঘটছে। আচ্ছা!
আপনি একদিন এই ঘরে থাকুন না আর আমি আপনার ঘরে দেখতে পাবেন দোলে কি না।’ আমার কথায়
বুড়িমা যেন আৎকে ওঠে। ‘না, বাবা, আমার নিজের ঘর ছাড়া অন্য কোথাও ঘুম হয়না। তা ছাড়া
তুমি কি বলছ আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।’ এই সময় জল দেবার লোকটা ডাকাডাকি শুরু
করে ফলে কথাবার্তা আর এগোয় না।
