ছোটোগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ছোটোগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, মে ০১, ২০১৭

কাঁহা গেলে তোমা পাই

লিখেছেন : ইন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

মানুষটার যাবার এত কিসের তাড়া ছিল কে জানে। চলেই যদি যাবে তো আশার কি প্রয়োজন ছিল; আর এলোই যখন, তখন আরও কিছুদিন থাকলে কি খুব ক্ষতি হতো! খুব কি প্রয়োজন ছিল এক উদ্ভিন্নযৌবনা যুবতীকে পরিত্যাগ করে অন্যত্র মন সমর্পণের? উত্তরেরা আজ তিনবছর পরেও ধরা দেয়নি; ধরা পড়েনি সে পুরুষালিতাও। মৃদু চিনচিনানি নিয়ে নাছোড় যন্ত্রণাটা অস্তিত্ব জ্ঞাপন করে চলেছে আজও। বারে বারে জৈষ্ঠ্যের নুনজড়ানো দুপুরে হঠাৎ পাওয়া একঝলক ঠাণ্ডা হাওয়ার মতোই আবেশ-বিহ্বল করে তোলে মধুময় স্মৃতিগুলো। নিজের অজান্তেই একচিলতে হাসি ফুটে ওঠে ঠোঁটের কোণায়। নিজের সবটুকু পুরুষত্ব নিয়ে যেন তাকে জাপটে ধরে সে অশরীরী অস্তিত্ব; মিশে যায় অভ্যন্তরে। নিকোটিন আর ঘাম মিলেমিশে তৈরি হওয়া ঝাঁঝালো গন্ধটার অলীক স্থিতি মোহাচ্ছন্ন করে তোলে। জীবনে-যৌবনে অন্ধের মতো হাঁতড়ে ফিরছে উপলা সে পুরুষকে; তার প্রাক্তন স্বামী সলিলকে।
##

পুরুষের কাছে যা প্রথম শ্রেণির দুর্বলতা, নারীর কাছেই তাই ব্রহ্মাস্ত্র বিশেষ। বড়ো বড়ো রাজা উজিরকেও হেলায় ভূতলশায়ী করে তোলে অস্ত্র প্রয়োগে পারদর্শী রমণীরত্ন। শরীর নিয়ে কোনোদিনই রক্ষণশীল হওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি উপলা। বরং উগ্র এক অহমিকা ছিল। কলেজের দিনগুলোয় প্রেমিকদের সঙ্গে চুম্বন তো ছিল নিত্য নৈমিত্তিকতা। মিলনও হয়েছে অনেকবার। শাস্ত্রই তো বলেছে: ক্ষুধা তৃষ্ণার ন্যায় রতির তৃপ্তিও আবশ্যক প্রয়োজনীয়তা। সলিলের সঙ্গেই তো দুবার মন্দারমণি ঘুরে এসেছে বিয়ের আগে। বিছানায় অনভিজ্ঞ সলিলকে রীতিমতো শিখিয়ে পড়িয়ে নিতে হয়েছে উপলাকে, কাম্য সুখ প্রাপ্তির উপায়গুলো।

বিশেষ করে মনে পড়ে মধুচন্দ্রিমার দিনগুলো। নিদেনপক্ষে তিন চারবার তারা মিলিত হয়েছিল সেই দশটা দিন। উদ্দাম যৌনতার সে উৎসব মনে পড়লে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। পেগিং এর বেদনাকাতর পুরুষের অভিব্যক্তির স্মৃতি আজও সিক্ত করে তোলে। সলিলও ততদিনে পাকা খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিল। চুলের মুঠি ধরে চারপেয়ে উপলাকে রমণে বাধ্য করেছে পাশবিক নিঠুরতায়। দমবন্ধ হয়ে আসা কষ্টর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তীক্ষ্ণ চিৎকারে - ঘনীভূত হয়েছে উভয়ের যৌন পরিতৃপ্তি।

সোমবার, মার্চ ০৬, ২০১৭

রাতের আঁধার



  --- পাপ্পন দাস
নিমেশ আর অমৃতা ঘুরতে বেরিয়েছেকার্তিকের সন্ধ্যেঠাণ্ডা বেশ ঝেঁকে বসেছেএবারের শীতটা বুঝি একটু তাড়াতাড়িই চলে এসেছেগত বছর আজকের এই দিনে লক্ষীপুজো ছিলসেদিন সবাই ঘেমে নেয়ে একশাঅবশ্য গতবছর গরমটা সেরকম পড়েনি,যেমন এবার পড়েছেআবার এবার দেখা যাচ্ছে রাত্রিটা বুঝি খুব তাড়াতাড়ি নেমে আসছে,
আকাশের হাসি হাসি মুখে একটা কালো দাগ লাগিয়ে দিয়ে তারা চলে যাচ্ছেতাঁরা দুজন হাঁটছে,আপন মনেই হাঁটছে,আর তাঁদের সঙ্গে প্রচুর লোকও হাঁটছেযতদূর মনে হচ্ছে সবাই স্থানীয় লোকনিমেশ আর অমৃতা এদের মধ্যে কয়েকজনকে চিনতেও পারছেহাই হ্যালো বাই বলে হাত টাত নাড়িয়ে আবার তাঁরা তাঁদের আপন মনে হাঁটছে
     নিমেশ ভাবছে,এই তো কিছুদিন আগে দুর্গাপুজো নামক একটা জাতীয় উৎসব চলে গেলহৈ চৈ পুজো দেখা,সারাদিন আনন্দে কাটানো,রঙ বেরঙে সজ্জিত কত লোক এই 'দিন সবকিছু ভুলে নিজেদেরকে দুর্গোৎসবের কাগজের ঠোঙায় চড়ে ভাসালোএর কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার আরেক পুজোসত্যিই এই জগতে জন্ম নেওয়া আমাদের সৌভাগ্যই বটেমাঝে মাঝে আবার নিজেকে তার পুতুলের মতন মনে হয়জীবন তাকে নাচাচ্ছে,আর সে নেচে নেচে বেড়াচ্ছে,নিজের কোন বক্তব্য নেই,নেই কোন উদ্দেশ্যজীবন তাকে যেদিকে নিয়ে যাচ্ছে, সে সেদিকেই যাচ্ছে,সেই ঢেউয়েই ভাসছেএই পৃথিবীতে জন্ম না নিলে কি এরকম একটা চমৎকার সময় কাটানো যেত?
     প্রথমে তারা চলে গেল পঞ্চপ্রদীপ  ক্লাবের পুজো দেখতেপ্রায় সত্তর বছরের পুরনো পঞ্চপ্রদীপ ক্লাবের পুজোর বারের থিম 'প্রাচীনকালীন' খুলে  বললেপুরনো সেই দিনের কথা' মণ্ডপটাকে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ধরনের খেলার সরঞ্জাম দিয়েবিভিন্ন বয়সের মানুষের মডেল দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে জীবনের শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত থাকা বিভিন্ন পর্যায়গুলোতারা দুজন হাতে হাত রেখে সারা মণ্ডপ ঘুরে পুজো দেখলোবেশ কয়েকটা সেলফি উঠলোএরপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে ফটো তোলার জন্য মোবাইলটা দিয়ে অন্তরঙ্গ হয়ে আরও দু'টো ফটো উঠলো
       তারপর বাঁদিকের পথ ধরে তারা গেল উদয়ন ছাত্র সঙ্ঘের পুজো দেখতেউত্তরপ্রদেশের গ্রামগুলোর বাড়ির আদলে সেজে উঠেছে এই পুজো মণ্ডপপ্রায় একশো বছরের পুরনো এই ক্লাবের পুজোর মণ্ডপটি সজ্জিত হয়েছে তন্ত্রসাধনার বিভিন্ন ছবি দিয়েবাইরে প্রচুর বেড়া লাগানোআর বেড়ার উপরে রয়েছে মাটির কিছু অলঙ্করণএখানেও তারা পুজো মণ্ডপ ঘুরে পুজো দেখলোতারপর বাইরে বেরিয়ে এসে কয়েকটা সেলফি,এবং এক মাসি গোছের কাউকে দিয়ে আরও তিনটে ফটো
    এবারের পুজো মণ্ডপটির নাম হলো সপ্তশিখা সঙ্ঘকিছু চেনাজানা লোক এখানে আছেন বলে তারা একটা দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিমা দেখতে ঢুকলোধ্যানরত অবস্থায় রয়েছেন প্রতিমা প্যান্ডেলটি আবার চতুর্ভুজাকৃতি মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে থার্মোকল,পেপার, মিরর গ্লাস,কিছু ফোম, ফয়েলের কিছু পেপার, কপারের প্লেট এবং আরও অনেক কিছু

শনিবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৩

সুবীরের বিয়ে/ মনোবর

একটা মখমলের কারুকার্যখচিত সিংহাসনে অপূর্ব সুন্দরী আইভি বসে আছে। বিউটি পার্লার থেকে দুজন অভিজ্ঞ বিউটিসিয়ান দু ঘন্টা ধরে ওকে আরো সুন্দরী করবার ভার নিয়েছিল। কাজ যা করেছে তারিফ করবার মত। সব বয়সের পুরুষরাই প্রেজেন্টেশন হাতে তুলে দেবার সময় মুগ্ধ হয়ে আইভিকে দেখছে। মেয়েরাও চোখের কোন দিয়ে ধরবার চেষ্টা করছে দু-একটা খুঁত যদি বার করতে পারে। না পেরে অকারণে গম্ভীর হয়ে যাচ্ছে। কাউন্টার থেকে একটা চিকেন চপ আর কাগজের গ্লাসে এককাপ কফি নিয়ে যুতসই পজিশনে একটা চেয়ারে বসে আমিও অপেক্ষা করছি। ভিড় একটু হাল্কা হলেই হ্যান্ডিক্যাম টা বার করে আইভি কে আমিও বন্দী করব। চেনাশোনা লোককে ইচ্ছা করেই এড়িয়ে যাচ্ছি কারন তাহলে অনেক ভাল মুহূর্ত হাতফস্কে পালাবে। মনটা আমারও একটু উচাটন হচ্ছে কারণ হল আমি এইদিনে কবে পৌঁছব তা বড়ই অনিশ্চত। হঠাৎ কার্তিক দা আমায় দেখে আর এক গ্লাস কফি এনে খাবার জন্য পীড়াপীড়ি শুরু করে দিল। ‘তোমার জন্য আনলাম না খেলে তো ভাই শুনব না।’ হয়ে গেল আমার ছবি তোলা! কার্তিক-দা’র একটা কেস আছে। ওর ছেলের প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরিটা ঝুলে আছে। মামলার রায় হয়েছে ছেলেটার ফেভারে কিন্তু সরকার গায়ে মাখছে না। আমায় দিয়ে একটু খোঁজ খবর করায় কিনা তাই ভ্রাতৃপ্রেম উথলে উঠেছে। এইবার ঢুকল বিধান সাহার দুই মেয়ে আর স্বয়ং বিধান সাহা। এক মেয়ে আইভির সঙ্গে পাল্লা দেবার ক্ষমতা রাখে। বেশ কিছু দৃষ্টি এবার তার দিকে ঘুরে গেল। সাহাদের এখানে নামডাক খুব। নানারকম ব্যবসা আবার সুন্দরী সব তরুণী মেয়ে ওদের নাম হবে না তো হবে কার! ‘যাই বল ননীবাবুর বৌমা দেখবার মত! তবে কি জান এইসব আলালের ঘরের দুলালী কাজে কর্মে তেমন সুবিধার হয়না। আমার মতে শুধু সুন্দর মেয়ে না খুঁজে কাজের মেয়ে খোঁজাই হল বুদ্ধিমানের কাজ।’ এই বলে কার্তিক দা আমার সমর্থন চায়। যেন দাস বাজারে ঝি খুঁজতে বেরিয়েছে! এর মধ্যে আবার দেশলাই বার করে মুরগীর চোকলা দাঁতের ফাঁক থেকে বার করবার লড়াইও চলছে। আমার ভাগ্যটাই না ফাটা চকলেট বোমের মত। ‘এইসব ক্যাতকেতে সুন্দরীরা কোন কাজেই লাগেনা। ফালতু শুধু ঝামেলা বাড়ায়।’ বলে আমি নকল বিরক্তি প্রকাশ করি। অমনি কার্তিক দা প্রাণখোলা এক হাসি ছাড়ে। আইভির ভালোমানুষ বাবা ওর কোন পাকা ধানে মই দিয়েছে ভগবানই জানে। এইবার এল ঘোষ ফ্যামিলি। দুই কন্যা আর এক নাতি সহ সূর্য্য ঘোষ। দুই বোন সব পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি করে লম্বা, আবার গৌরবর্ণ। একজন আবার কুটুস করে আমায় একবার দেখে নিল। ওর দিকে ক্যামেরা ধরব না। ওর গোপন প্রেমের কথা বাজারে ফাঁস করে দিয়েছিলাম বলে দেখা হলেই চোখ দিয়ে আমায় ভস্ম করে। প্রেমের হালুয়া পাকিয়ে দিয়েছি। কলেজ বন্ধ। তোলা জলে স্নান আর ঘরে বসে টিভি দেখা এই এখন ওর জীবন।
দূর! যা হয় হবে বলে শখের ক্যামেরাটা বার করলুম। কার্তিক দার খুব ছবি তোলার ইচ্ছা। তা ছাড়া লোকটার জিভের ধার খুব তাই প্রথমেই ওর ছবি নিলুম। ওসব কি আর রাখব। সব ঝেঁটিয়ে বিদায় করব। ‘তুমি এগুলো কি কর?’ কার্তিক দা জানতে চায়। ‘সব জমিয়ে রাখি। মানুষ পালটে যায় কিন্তু ছবি তো পাল্টায় না তাই রেখে দি।’ ‘ও! তোমার শখ আর কি!’
‘তা বলতে পারো।’
‘যাই ভাই। আমার একটু তাড়া আছে। দেখি প্রথম ব্যাচে যদি বসতে পারি। আর আমার ব্যাপারটা মাথায় রেখো। মনে আছে তো?’
‘তুমি কিচ্ছু ভেবোনা ওর চাকরি না হওয়া পর্যন্ত আমারও শান্তি নেই। আমি ঘন ঘন খবর নেবো।’
এই শুনে কার্তিক দা বিদায় নিতে আমি দিলখুশ সব মুহূর্ত ক্যাপচার করা শুরু করলুম। সুন্দর এক পরিবেশ প্রস্তুত। অপূর্ব সুরে সানাই বাজছে। চারিদিকে দৈব সুগন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। আর সব রঙ আজ এইখানে এসে জড় হয়েছে। এইবার এল সুবীর নিজে। হাতধরে টেনে নিয়ে বসিয়ে দিল ওর বন্ধুদের আসরে। যতই বলি খাবোনা। তা কে শোনে কার কথা! তা যাকগে, মেরে দিলুম দু ঢোক। সবাই যদি পারে আমি কেন পিছিয়ে থাকব! আইভি কে এক একবার এক একরকম দেখছি। অন্যান্য দৃশ্যও ধরবার চেষ্টা করলুম।

কিন্তু যে ব্যাচেই বসবার চেষ্টা করি আমার আগেই টেবিল দখল হয়ে যায়। প্রচুর লোক নিমন্ত্রিত হয়েছে কিনা। আজ হল আমার আত্মত্যাগের দিন। এদিকে ফক্কা ওদিকেও ফক্কা। আজ সুবীরের ছক্কা মারার দিন মারুক। সব লোকের খাওয়া হয়ে যাবে শুধু আমি কোলে ক্যামেরা নিয়ে হেঁসেল থেকে খানিক দূরে আমগাছে পিঠ ঠেকিয়ে বাটনা বাটা দেখব। ছ্যাক ছ্যোক শুনব আর রন্ধন সুরভিযুক্ত বাতাসে বুক ভরাব। ওদিকে বাসর ঘর খালি হলে সুবীর অবনত চোখ সুন্দরী আইভিকে বলবে, ‘আমার দিকে একবার তাকাও না। নাকি প্রতিজ্ঞা করেছ যে তাকাবে না।’ আইভি তখন ইতস্ততঃ করে থেমে আস্তে আস্তে চোখ তুলে তাকাবে। সুবীর কি আর থাকতে পারবে এগিয়ে যাবে আইভির আরও কাছে। বুড়ো বিসমিল্লার জয়জয়ন্তী তখন গলে গলে পড়বে চোখ থেকে মনে, মন থেকে হৃদয়ে আর এই শালার অন্ধকারেই যত মশা! ওদের জন্মই হয়েছে আমার রক্ত খাবার জন্য। খা তবে, খালি পেটের রক্ত খেয়ে ধন্য হ রক্তচোষার বাচ্চারা!

মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৩

সেই রাতে যা ঘটেছিল

            লিখেছেন :  মনোবর
আমার হেডফোনটা গেল খারাপ হয়ে পাঁচ গজ তার সমেত ফিলিপসের হেডফোনটা শো টাকা দিয়ে কিনেছিলুম তা বছরখানেক পর তার কোথায় একটা কি যেন লিক হয়ে গেল অফিসে নিয়ম কানুন এমন কড়া করেছে যে খানিক আগে বেরুব তার উপায় নেই রেজিষ্টারের কাছে গেলে তিনি দেখান এস কে, এস আবার দেখান ডি এস কে ডি এস আবার বলেন, ‘সেক্রেটারিকে বলে যান ব্যাপারে আমি কিছু করতে পারব না সেক্রেটারির ঘরে ভিড় লেগেই থাকে ওই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এই শো টাকার প্রব্লেম কে প্রায়োরি টি খাওয়ান অসম্ভব যাক্গে বাবা অফিস ছুটির পরেই না হয় চাঁদনি চকে যাব ওখানে টুলে বসে কাজ করে বিশাল সব মেকানিক হেডফোন, হটফোন, চাঁদে যাবার রকেট সব ওরা সারাতে পারে বলে শুনেছি

রবিবার, নভেম্বর ১০, ২০১৩

জীবন মঞ্চের দু-একটি কথা


                    লিখেছেন :মনোবর
রঙ্গমঞ্চে একটা লাশের মত এলিয়ে আছি। চারদিক ঘেরা এই মঞ্চে খাটের উপর থেকে লাশটাকে তুলে এইবার হাঁটাতে হবে কারণ আজ একটা সাক্ষাৎকার আছে। কিন্তু একটা কল করে নেওয়া দরকার। ঠিক আছে স্টেশনে গিয়েই না হয় করা যাবে। এই জামাকাপড় পরার ব্যাপারটা বিরক্তিকর। একসেট পোষাক তুলে রাখা আছে কিন্তু এখন বারকরা যাবে না। তাহলে জেরার মুখে পড়তে হবে। এই পোষাকে যাওয়াটাও খেলো দেখাবে। তাহলে? হয়েছে! ওঘরে কেউ নেই। যা আছে কপালে! 
পরবর্তী দৃশ্যে আমি রাস্তায়। দ্বিতীয় চরিত্র রুনার বাবা। ডাইরেক্টরের ষড়যন্ত্র। বলছিলাম গতমাসে তো বেশ কয়েকটা কামাই আছে এই শনিবার রবিবারটা পড়িয়ে দিলে হতনা?’ আজ তো হবেনা। বড়দির বাড়ী যাচ্ছি বড়দাদাবাবু হঠাৎ শুয়ে পড়েছে। বলে আমি এগুতে এগুতে দেখি রুনার বাবার চোখে অবিশ্বাস ঝুলে রয়েছে।
মারো গুলি। ভুগিয়ে ভুগিয়ে টাকা দেয়। আবার শনি রবি পড়াতে বলে। বেকার জানে কিনা বায়নার আর অন্ত নেই। কোথায় চললি রে?’ পান চিবুতে চিবুতে হারুদার উদয়। বড়দির বাড়ী যাচ্ছি। আমার নির্বিকার উত্তর। তোর বড়দি তো লক্ষীকান্তপুরে থাকে। এখন তো আপট্রেন আসবার সময়!হারুদা অবাকহয়ে জিজ্ঞাসা করে। শালাদের কি আমার ঠিকুজি মুখস্থ থাকে! বড়দি আছে মেজদির বাড়ী জামাইবাবু হাসপাতালে ভর্তি তো তাই। আমিও তো পিজি তে যাচ্ছি ভায়রাভাই কে দেখতে। ভাগ্যিস হাসপাতালের নাম বলিনি। চল ভালই হল গল্পে গল্পে যাওয়া যাবে। হারুদার খুশী আর ধরছে না। এখন কলটা কিভাবে করা যায়! চা খাবি?’ হারুদা প্রস্তাব দেয়। এই সুযোগ।

মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৫, ২০১৩

কিছুতেই হবার নয়


                লিখেছেন :মনোবর
এক দম্পতি মিলিতভাবে জীবনের বেশ কতকগুলি বছর কাটাবার পর এক সমস্যা দেখা দিল। লোকনাথ বাবুর একবাজে অভ্যাস নিয়ে গোলমালের সূত্রপাত হল। সকালে ঘুম ভাঙ্গতেই তিনি গুড়ুম, গাড়ুম, কোঁ কা, কুক, ফস্‌ ফো, ফুক প্রভৃতি নানারকম শব্দ নির্গত করতে থাকতেন। পায়ুদেশ থেকে নির্গত হয়ে কিছু অতিরিক্ত বায়ু পরিবেশকে বিসদৃশ করে তার অতীব সংযমী এবং লজ্জাশীলা স্ত্রীর বিরক্তি উৎপাদন করত। একদিন ক্রুদ্ধ হয়ে স্ত্রী বলে ফেললেন, ‘তোমার অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মত ঔষধ সেবন করা উচিত।

শুক্রবার, অক্টোবর ১১, ২০১৩

ডিগ্রি



লিখেছেন রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য
তুমি থামত হে, তারক ! যত্তসব ফ্যাদরা প্যাঁচাল পাড় সবসময় ক্ষেতু বাগচী গর্জে উঠলেন ।

চন্দন ডাক্তার গলার স্টেথোটা খুলে বলল- তারকদাকে আবার আক্রমণ কেন, ক্ষেতুদা?

তারক মোত্তির উত্তর দিলেন তুমি কল থেকে ফেরার আগে, ক্ষেতুদা বলছিলেন- ভারতের অর্থনীতির বেশ্যায়ন হয়েছে। আমি খালি বলেছি- শব্দটার উচ্চারণ হবে, বিশ্বায়ন । তাতেই , ক্ষেতুদা ফায়ার ।

কবি বদরী সান্যাল মিনমিন করে বললেন- উচ্চারণের বিধি আছে নাকি ?

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৩

সুরভী



                      লিখেছেন : কাশীনাথ গুঁই
মধুমতীর বাঁকের ছোট গাঁয়ের চাষার ছেলে অনি।ওর বাবা পণ্ডিতমশায়ের ভাগচাষী।অনিকে পরের জমিতে ঘাম ঝরিয়ে তেভাগার অকাট মুখ্যু না হতে হয় এই ছিল তার আশা।তাই হাতে পায়ে ধরায় অনিকে ভর্তির ব্যবস্থা করেন পণ্ডিতমশায়।সে ছেলে যে আধপেটা খেয়ে মলাটহীন আধছেঁড়া বই ঘেঁটে ফিবছর ক্লাসে ফার্ট হবে কে জানতো সেকথা।
সুরভী পণ্ডিতমশায়ের বড় নাতনী। সে এখন ক্লাস এইট। ছোটবেলা থেকেই পাড়ার ভাল ছেলে অনির কাছে পড়ার সময় পড়া বুঝেছে এক্কাদোক্কার সাথী হয়েছে।পড়া শেষে সূয্যি পাটে বসার সময় মাঠের ধারে দিঘির পাড়ে বসে ঘাস চিবোতে চিবোতে সূয্যিটাকে দিগবলয়ে লুকোচুরি খেলতে দেখেছে।মধুমতীর বুকে নৌকা বাইচের উত্তেজনায় বুকে হাপর টানতে টানতে অনির পিঠে মুখ লুকিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৩

মাতৃত্বের অহংকার


                                লিখেছেন  অরবিন্দ দত্ত  
অলি আফিসে আমাকে ফোনে বলল,তিতির এখনো স্কুল থেকে বাড়ি ফেরেনি। তুমি তাড়াতাড়ি বাড়িতে এসোফোনে খবরটা শোনা মাত্র  আমি দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে প্রায় ঝড়ের গতিতে বাইক চালিয়ে বাড়িতে পৌছালাম। জীবনে কোনদিন এতো জোরে বাইক চালাইনি।
তিতির আমাদের  একমাত্র মেয়ে। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ক্লাস ওয়ানে পড়ে। আমারই এক চেনাশোনা  রিক্সাওয়ালা গোবিন্দ ওকে নিয়মিত  স্কুলে পৌঁছে দেয়  আবার নিয়ে আসে।  ইদানিং গোবিন্দর  সাথে তিতরের খুব  বন্ধুত্ব  হয়েছে। গোবিন্দ তিতিরকে খুব স্নেহ করে ও ভালবাসে,  সে তিতির কে ‘দিদিমণি’ বলে ডাকে। হাজারো  ঝড়- বৃষ্টিতেও গোবিন্দ তিতিরকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসে আর তিতির,  সেও  তার গোবিন্দ কাকুর  রিক্সা ছাড়া অন্য কোন রিক্সায় স্কুলে যেতে চায়  না। প্রথম প্রথম অলি  গোবিন্দর রিক্সাতে তিতিরকে স্কুলে পৌঁছে দিত আবার নিয়ে আসতো একদিন গোবিন্দই অলিকে বলেছিল, বৌদি আপনাকে  আসতে হবে না। আমিই ‘দিদিমণি’ কে  স্কুলে দিয়ে আসবো আবার নিয়ে আসবো।  অলি একা তিতিরকে গোবিন্দর  রিক্সায়  পাঠাতে চাইছিল না।  গোবিন্দ বুঝতে পেরে বলল,  ভাববেন না বৌদি, আমি দিদিমণিকে  ঠিক মতো নিয়ে যাব। আমারও দিদিমণির বয়সী একটা মেয়ে আছে। পরে একদিন আমি গোবিন্দর বাড়ীর ঠিকানাটা নিয়ে ওর  বাড়ীটা দেখে এসেছিলাম। এখন গোবিন্দ তিতিরকে  স্কুলে  নিয়ে যাওয়া-আসা ছাড়াও  আমাদের অন্যান্য  টুকটাক কাজকর্ম  মাঝে মধ্যে করে দেয়। ধীরে ধীরে ও আমাদের বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। এমনিতে গোবিন্দ খুব কর্তব্যপরায়ণ।